আত্রাই নদীতে অবৈধ সৌঁতিজাল ও বিষ প্রয়োগে মৎস্য নিধন!

October 28, 2017

jar-jafor-neatনাটোর সংবাদদাতাঃ
নাটোরের সিংড়ায় বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে নদ-নদীর মুখে ও চলনবিলের বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ সোঁতি বাঁধ দিয়ে মৎস্য নিধনের মহোৎসব শুরু হয়েছে। পানি প্রবাহের মুখে সোঁতি বাঁধের কারণে নদীপাড়ের মানুষের বসতভিটা ও এলাকাবাসীদের ফসলি জমি ভেঙ্গে পানিতে বিলীন হচ্ছে। এ ছাড়া চাষাবাদে সেচের পানি নিয়ে কৃষকদের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নির্বিচারে মা মাছ থেকে শুরু করে সব রকমের মৎস নিধন শুরু করেছে কথিত মৎস্য শিকারী ও প্রভাবশালীরা। সোঁতি জালের কারণে পোনা মাছ থেকে শুরু করে কোন মাছই রেহাই পাচ্ছে না। পাশাপাশি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে চলনবিল অঞ্চলের ফসল আবাদ কার্যক্রমের।

উপজেলা ব্যাপি সৌঁতি উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিজেদের অবৈধ জাল প্রশাসনের কাছে জমা দেয়ার ঘটনাও সিংড়ায় ঘটেছে।

এই প্রতিবেদক সরেজমিনে উপজেলার আত্রাই নদীর জোড় মল্লিকা, তেলিগ্রাম-সিধাখালী হাঁসপুকুরিয়া, রাখালগাছা,হরিপুর,তাজপুর,চক নঁওগা,খরসতি ও সারদাগরে অসংখ্য পয়েন্টে বাঁশ ও চাটাই দিয়ে পানির প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে সোঁতি বাঁধ স্থাপন করে ও পানিতে বিষ প্রয়োগ করে মৎস্য নিধন করতে দেখেন। এছাড়া পৌর শহরের চরপাটকোল ও নিংগইন এলাকায়ও অবৈধ সৌঁতিজাল দেখা গেছে। এ ছাড়া আরও বেশ কয়েকটি পয়েন্টে সোঁতি বাঁধ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার ওমর আলী জানান, সৌঁতিজালের বিরুদ্ধে প্রশাসন সবসময় তৎপর এবং আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। আমরা ইতিমধ্যে ১০ হাজার মিটার জাল , ১১টি বাদাইজাল পুড়িয়েছি,তাছাড়া ৩০টি অবৈধ সৌঁতিজাল উচ্ছেদ,২০টি জাল পুরানো,১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও এ পর্যন্ত ১৩টি মামলা দায়ের করেছে মৎস্য বিভাগ।
সম্প্রতি কলম ইউপি চেয়ারম্যান মইনুল হক চুনুর হস্তক্ষেপে অবৈধ জাল উপজেলা প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছে মৎস্য শিকারীরা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ মাহমুদ জানান, এটা মৎস্য বিভাগের কাজ । মৎস্য বিভাগ চাইলে আমরা যেকোনো সময় প্রশাসনিক সহযোগীতা করবো।