কে গডফাদার কে কী এটা আমরা বিচার করছি না

May 30, 2018

স্টাফ রিপোর্টার// দেশজুড়ে চলমান মাদক বিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন: অভিযান নিয়ে অনেক বড় পত্রিকা সমালোচনা করছে। আমি আপনাদের জিজ্ঞেস করতে চাই, আপনারা কোনটা চান? অভিযান চলুক নাকি বন্ধ হয়ে যাক? আমি শুধু বলবো: কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মনে রাখবেন, আমি যখন ধরি ভালোভাবেই ধরি। ভারত সফর শেষে দেশে ফিরে বুধবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

‘অভিযানে মাদকের গডফাদাররা পার পেয়ে যাচ্ছে’ এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন: ‘কে গডফাদার কে কী এটা আমরা বিচার করছি না। গোয়েন্দা সংস্থা অনেক দিন ধরে কাজ করেছে। আপনারা যেটা ভাবছেন সেটা না। হুট করেই এ অভিযান শুরু হয়নি। দীর্ঘদিন থেকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এমন দিন নাই ইয়াবাসহ মাদক ধরা পড়েনি। এখন তাদের ধরা হচ্ছে। গডফাদার যেই থাকুক ছাড়া হচ্ছে না হবে না। আপনারা তো জানেন আমি যখন ধরি ভালো মতই ধরি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন: ‘আমি খুব অবাক হই, এতো এতো রিপোর্ট ছাপা হচ্ছে, কিন্তু কতজনকে গ্রেপ্তার করা হলো তা কেউ লিখছে না। শুধু ক্রসফায়ারের কথা আসছে। একটা অভিযান চালাতে গেলে কিছু অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতেই পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আত্মরক্ষা করবেই। কোথাও কি একজনও নিরপরাধ ব্যক্তি মারা গেছে? আমরা ব্যবস্থা নেবো।’

তিনি বলেন: ‘যেভাবেই হোক মাদক বন্ধ করতে হবে। আর যদি বলেন তাহলে অভিযান বন্ধ করে দেই। অভিযান বন্ধ করলে কি সমাজ ভালো থাকবে? আজকের সমাজে হাহাকার এ মাদকের কারণেই। মেয়ে বাবা-মাকে হত্যা করছে, ছেলে বাবাকে হত্যা করছে, ভাই ভাইকে হত্যা করছে। এটা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন: আমি যখন সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান চালিয়েছি তখনও সমালোচনা হয়েছে। এখনও হচ্ছে। আপনারা দেখবেন, সারাবিশ্ব সন্ত্রাসে আক্রান্ত হচ্ছে এখন সেই তুলনায় আমরা ভালো আছি।

ভারত সফরে দ্বি-পাক্ষিক সব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিস্তা ও রোহিঙ্গা ইস্যুতেও ভারতের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এসময় চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান এবং কৃষি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ প্রধানমন্ত্রীর কাছে দুটি বিষয় উপস্থাপন করেন। প্রথমে বাজেটে কৃষিতে ভর্তুকির বদলে বিনিয়োগ শব্দ ব্যবহারের জন্য শাইখ সিরাজ তার প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। বলেন: এতে করে কৃষকের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।

দ্বিতীয় প্রস্তাবনায় তিনি বলেন: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষক বারবার ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এ বিষয়টি মাথায় রেখে শস্য বীমা করা যায় কিনা ভেবে দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তার পশ্চিমবঙ্গ সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন। বলেন: তারা আমাদের নিকট প্রতিবেশী। এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

“প্রধানমন্ত্রী” এর আগে ২ দিনের সরকারি সফরে পশ্চিমবঙ্গ যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় বিশ্বভারতীয় শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন ছাড়াও সেখানকার সমাবর্তনে যোগ দেন তিনি। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।

এরপর সেখান থেকে যান রাজ্যের পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে; যেখানে জন্ম নিয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। সেখানে তার নামে প্রতিষ্ঠিত ‘কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে’র বিশেষ সমাবর্তনেও যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া সম্মানসূচক ‘ডি-লিট’ ডিগ্রি গ্রহণ করেন তিনি। এরপর কলকাতায় ফিরে নগরীর ভবানীপুরে ‘নেতাজী ভবন’ পরিদর্শনে যান শেখ হাসিনা।