খায়রুজ্জামান লিটনের অর্জন

July 15, 2018

Somyersongbad//

নির্বাচনের সময় যখন প্রার্থীরা ভোট চাইতে আসেন, ভোটারদের কাছে তারা নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন। ভোটারদের কাছে মনে হয় এগুলো কথার কথা ছাড়া আর কিছু নয়। যে কারণে ভোটারদের মুখে প্রায়ই একটি প্রবাদ বাক্য উচ্চারিত হয়, “যে যায় লঙ্কায়, সেই হয় রাবণ।” ভোটের সময় কথা দিয়ে কথা না রাখার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, বলা যেতে পারে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এই অপসংস্কৃতির মূলে কুঠারাঘাত করেছেন। বিগত ২০০৮ সালের মেয়র নির্বাচনে রাজশাহী মহানগরের ভোটারদের কাছে যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, সেগুলো তিনি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। ২০০৮ সালের মেয়র নির্বাচনের সময় এএইচএম খায়রুজ্জামান কথা দিয়েছিলেন রাজশাহী শহরকে তিনি একটি তিলোত্তমা শহরে রূপান্তরিত করবেন। মেয়র নির্বাচিত হবার পর বিগত পাঁচ বছরে রাজশাহী শহরটিকে তিনি যে কি এক অপরূপ শহরে রূপান্তরিত করেছেন, রাজশাহীতে না এলে তা কেউ বুঝতে পারবেন না। রাজশাহী শহর উন্নয়ন কোন পর্যায়ে আছে, সে দিকে একটু দৃষ্টি দেয়া যেতে পারে।

২০০৮ সালে মেয়র নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন যখন রাজশাহী মহানগরের দায়ভার গ্রহণ করেন, তখন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল। প্রায় ১৮ কোটি টাকা দেনার বোঝা মাথায় নিয়ে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন তাঁর কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। রাজস্ব আয়ে কর্পোরেশনের কর্মচারীদের বেতন ও গাড়ির তেলের অর্থ জোটাতেও চলছিল টানাটানি। চারদিকে সীমাহীন সঙ্কট। সঙ্কট উত্তরণের লক্ষ্যে তিনি দ্বিমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেন। প্রথমত দায় দেনা পরিশোধ, কর্পোরেশন পরিচালনা ও উন্নয়নমূলক কাজের জন্য অর্থ সংগ্রহ। দ্বিতীয়, সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মহানগরীর সার্বিক উন্নয়নমুখী পরিকল্পনা ভিশন ২০১৮ প্রণয়ন। সিটি কর্পোরেশনের জন্মের পর এটিই ছিল প্রথম দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা। ভিশনের কর্মসূচীসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মহানগরের সচেতন মানুষ, সরকার, প্রশাসন, জেলা পরিষদ, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, গণপূর্ত বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দফায় দফায় সভার আয়োজন করা হয়। তারা আপন আপন পরিকল্পনা প্রণয়ন, সেবার মানোন্নয়নে পরস্পর সহযোগী হয়েও। এ সব সৃজনশীল উদ্যোগ গ্রহণের ফলে উন্নয়নের নতুন নতুন পথ আবিষ্কৃত হয়। মহানগরবাসী, সরকার ও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সংগঠনের সহযোগিতায় মাত্র সাড়ে চার বছরের মধ্যেই রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, নগর সেবার উন্নয়ন ও মহানগরীর আর্থসামাজিক অবস্থার ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়। প্রসঙ্গক্রমে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের উল্লেখযোগ্য সাফল্য সমূহ তুলে ধরছি:

বাস্তবায়িত ও বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প- ১. রাজশাহী মহানগরীর ফায়ার ব্রিগেড ক্রসিং থেকে উত্তর নওদাপাড়াস্থ চাঁপাই নবাবগঞ্জে নাটোর মহাসড়ক পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প।

২. রাজশাহী মহানগরীর উপশহর মোড় থেকে সোনাদীঘি মোড় এবং মালোপাড়া মোড় থেকে সাগর পাড়া মোড় পর্যন্ত সংযোগ সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন।

৩. রাজশাহী নওগাঁ প্রধান সড়ক থেকে মোহনপুর রাজশাহী নাটোর সড়ক পর্যন্ত পূর্ব-পশ্চিম সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প।

৪. শ্যামপুর শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট থেকে কাঁটাখালী পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ।

৫. কল্পনা সিনেমা হল থেকে তালাইমারী পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন ও প্রস্তুতকরণ।

৬. রাজশাহী মহানগরীর সড়ক নেটওয়ার্ক-এর উন্নয়ন প্রকল্প

৭. নাটোর রোড (রুয়েট) থেকে রাজশাহী বাইপাস রোড (খড়খড়ি) পর্যন্ত রাস্তা প্রস্তুতকরণ।

৮. বিমানবন্দর সড়ক (শালবাগান) থেকে বাইপাস সংযোগ সড়ক পর্যন্ত রাস্তা প্রস্তুতকরণ।

৯. সাহেব বাজার থেকে গৌরহাঙ্গা পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ।

১০. নাটোর রোড থেকে (কাপাসিয়া বাজার) রাজশাহী বাইপাস পর্যন্ত রাস্তা প্রস্তুতকরণ।

এছাড়া ভদ্রার মোড় থেকে রাজশাহী বাইপাস, কয়েরদাঁড়া মোড় থেকে সন্তোষপুর এলাকার বাইপাস পর্যন্ত, মেহেরচন্ডী থেকে হরিয়ান, বিনোদপুর থেকে হলিদাগাছিসহ অসংখ্য রাস্তা নির্মিত হয়েছে অথবা নির্মাণাধীন রয়েছে।

এছাড়া এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন-এর দৃশ্যমান উন্নয়নের মধ্যে রয়েছে ট্রাফিফ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, রাতের মহানগরীকে সুশোভিতকরণ ও সাশ্রয়ী বাতি স্থাপন, ওয়াকিটকির মাধ্যমে কাজের সমন্বয়, সোলার স্ট্রিট লাইটিং প্রকল্প, স্বাস্থ্য সেবা, রেড ক্রিসেন্ট ব্লাড ব্যাংক স্থাপন, জন্ম নিবন্ধন, আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার প্রকল্প, কমিউনিটি টয়লেট নির্মাণ, পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম ও মশক নিয়ন্ত্রণ, সেকেন্ডারি পয়েন্ট ও অবকাঠামো নির্মাণ, মশক নিয়ন্ত্রণ, আরবান পাবলিক অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল হেল্থ সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট, পানি সরবরাহ, সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমি স্থাপন, কাউন্সিলর গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট, টেস্ট ভেন্যু স্থাপন, বি কে এস পি স্থাপন, সিটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প, বিকাশ কেন্দ্র ও প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্তকরণ, কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা, মিড ডে মিল চালুকরণ, সংস্কৃতি উৎসব ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন, কালচারাল কমপ্লেক্স, পূর্ণাঙ্গ টেলিভিশন কেন্দ্র, জেলা পরিষদ মিলনায়তন আধুনিকীকরণ, শহীদ এএইচএস কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা উন্নয়ন, নভোথিয়েটার স্থাপন, ভুবন মোহনপার্ক সংস্কার, পদ্মাতীরের বিনোদন স্পট নির্মাণ, সাহেব বাজার মসজিদ পুনঃনির্মাণ, কেন্দ্রীয় ঈদগাহ নির্মাণ, ধর্মসভা কমপ্লেক্স নির্মাণ, সিটি সেন্টার কমপ্লেক্স, হড়গ্রাম বাজার বর্ধিত করণ, দারু চিনি প্লাজা নির্মাণ, গোরহাঙ্গা মসজিদসংলগ্ন সিটি কর্পোরেশন বাণিজ্যিক ভবন বধিতকরণ, স্বপ্নচূড়া বাণিজ্যিক ভবন, ফ্রি ওয়াইফাই জোন স্থাপন, পুরাকীর্তি সংরক্ষণ, পর্যটন উন্নয়ন ও রাজশাহী সিটি মিউজিয়াম স্থাপন, রাজশাহী মহানগরী : অতীত ও বর্তমান সংকলন গ্রন্থ, বরেন্দ্রের বাতিঘর, চকপাড়া এলাকায় স্যাটেলাইট টাউন উন্নয়ন প্রকল্প, পদ্মার চরে রিভার সিটি নির্মাণ প্রকল্প, পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ, রাজশাহী শিশু হাসপাতাল, রাজশাহী- ঢাকা সরাসারি নৈশ ট্রেন চালু, বিমান বন্দর চালু, বিমান বন্দরকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীতকরণ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দশতলা ভবন নির্মাণ, নার্সেস ফিমেল হোস্টেল নির্মাণ, প্রশিক্ষণ মর্গ এবং মরচুয়ারি নির্মাণ, ডেন্টাল ইউনিট ভবন নির্মাণ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা অফিস ভবন নির্মাণ, রাকাবের প্রধান কার্যালয়ের ভবন নির্মাণ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত ভবন নির্মাণ, রাজশাহী বড় কুঠি ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ, সিভিল সার্জন অফিস ভবনের উন্নয়ন, র্যা ব-৫ কমপ্লেক্স নির্মাণ, নির্যাতিত নারী পুনর্বাসন কেন্দ্র, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের ভবন নির্মাণ, বনলতা বাণিজ্যিক এলাকা সম্প্রসারণ ও আবাসিক এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প, প্রান্তিক আবাসিক এলাকা, ছায়াবীথি আবাসিক এলাকা, স্বপ্নিল আবাসিক এলাকা, গোধূলি আবাসিক এলাকা, পূবালী বহুতল মার্কেট নির্মাণ, সাহেববাজারে অবস্থিত আর ডি এ মার্কেটের দক্ষিণপ্লাজা নির্মাণ, গোধূলি বহুতল মার্কেট নির্মাণ, মহানন্দা বহুতল সুপার মার্কেট নির্মাণ ইত্যাদি। সব মিলিয়ে রাজশাহী শহরটি এখন উন্নতমানের একটি অত্যাধুনিক পরিচ্ছন্ন শহরে রূপান্তরিত হয়েছে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জনাব এইচএম কামারুজ্জামান ১৯৭৩ সালে সংসদ নির্বাচনে একই সময় দুটি আসনে বিজয়ী হন। প্রচলিত নিয়মে তাকে একটি আসন ছেড়ে দিতে হয়েছিল। তিনি রাজশাহী মহানগরের আসনটি ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় কোন রাজনীতিবিদ রাজশাহী মহানগরের আসনটিকে ধরে রাখতে পারেননি। ১৯৭৩ সালের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী পরাজিত হন জাসদ মনোনীত প্রার্থীর কাছে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আওয়ামী লীগের জয়ের ধারা ফিরিয়ে আনেন ২০০৮ সালের মেয়র নির্বাচনে কামারুজ্জামান পুত্র খায়রুজ্জামান লিটন। এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনাই বটে।

বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু দীর্ঘ ১৬ বছরে রাজশাহী মহানগরের উন্নয়নে ব্যয় করেছেন ৩০০ কোটি টাকা, অপর দিকে খায়রুজ্জামান লিটন তাঁর পাঁচ বছরের কম সময়ে উন্নয়ন খাতে ব্যয় করেছেন প্রায় ৭০০ কোটি টাকা।