নোয়াখালী কানুচর এর ভূমিদস্যু ও মামলাবাজ পারভেজ এখন চট্টগ্রামে এসে মোঃ আলীর বাড়ী দখলের চেষ্টা

May 13, 2018

স্টাফ রিপোর্টার//

দিনের পর দিন মধ্য-প্রাচ্যে থেকে কঠিন প্ররিশ্রম করে টাকা রোজগার করে পরিবারের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে চট্রগ্রাম এর দক্ষিণ পতেঙ্গায় ২৮ শতকজমি ক্রয় করে বাড়ী ঘর নিমার্ণ করেন মো:মিয়া প্রকাশ মোহাম্মাদ আলী, বর্তমানে এই জমি ও বাড়ী দখলের জন্য ছেলে ভুমিদস্যুদের সাথে নিয়ে পিতার উপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে বলে এমন অভিযোগ করেছেন খোদ বাবা মো: মিয়া প্রকাশ মোহাম্মাদ আলী। চট্রগ্রাম মহানগরীর সিএমপি পতেঙ্গা থানার দক্ষিণ পতেঙ্গার নতুন মিয়াজি পাড়ায় মো: মিয়া প্রাকাশ মোহাম্মদ আলীর পরিবারে ঘটেছে নির্মম ঘটনা। বড় ছেলে নাছির উদ্দিন(৩৪), সেলিম(৩০), সুলতানা(২৬) ও ফারজানা(১৭) নামে চার সন্তান রয়েছে তার।এদের জন্য আমি প্রবাসে থাকা অবস্থায় অনেক কিছু করেছি। এরপর আমি আমার টাকা দিয়ে ক্রয় সুত্রে মালিকানা ধীন জায়গার উপর দ্বিতল একটি ও তিন তলা বিশিষ্ট মোট দুইটি ভবন নির্মাণ করি। কিন্তু বড় ছেলে নাছির উদ্দিন লোভের বশবর্তি হয়ে তার মা রোকেয়া বেগম ও ভাই-বোনদের নিয়ে ওই জমি ও ভবন তাদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার জন্য জয়নাল আবেদীন পারভেজ  সাথে নিয়ে আমার উপর চাপ সৃস্টি করে।
মো: মিয়া প্রাকাশ মোহাম্মদ আলীর অভিযোগ, নোয়াখালী কানুচর  গ্রামের গাজীর হাট এলাকায় বিভিন্ন অর্পকম করে পালিয়ে আসা ভুমিদস্যু জয়নাল আবেদীন পারভেজ নামে এক ভুমিদস্যু চক্রের মাধ্যমে মামলার পর মামলা দিয়ে হয়রানি জেল-জুলুম কোন কিছুই বাকী নেই এই নির্মম নির্যাতনে। বেদম মারধর করে পাগল সাজিয়ে জোরপূর্বক হাতের টিপ নিয়ে তার ২৮ শতক জমির মালিক হতে চেয়েছিলেন তার ছেলে নাছির উদ্দিন ও ভুমিদস্যু জয়নাল আবেদীন পারভেজ ও তার প্রতারক চক্ররের মুল ভুমি দস্যুরা।
এরপর সু-কৌশলে জাল কবলা তৈরী করে সব জমির মালিক বনে যান জয়নাল আবেদীন পারভেজ  নিজেই। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এ জমির খতিয়ান ও সৃজন করা হয়।এ নিয়ে মো:মিয়া (প্রকাশ) মোহাম্মাদ আলী আদালতে মামলা করলে আদালতের নির্দেশে আবার ওই খতিয়ান বাতিলও হয়ে যায়।
তবুও আদালতের নির্দেশ কে অমার্ন করে আবারও জাল কবলা দিয়ে কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকতাকে টাকার বিনিময়ে হাত করে একের পর এক মামলা, হামলা, হুমকি, জেল-জুলুম, চালিয়ে যাচ্ছেন এই ভুমি দস্যু সেন্ডিকেট।
মো: মিয়া প্রাকাশ মোহাম্মদ আলী  আরো জানান, আমি যখন মর্ধ্যপ্রাচ্য থেকে দেশে চলে আসি। দেশে আসার পর আমার প্রথম স্ত্রী রোকেয়া বেগম আমাকে বাড়ী ঘর বিক্রি করে দিয়ে নতুন একটি বাড়ী কিনার জন্য বলে, এবং অন্যত্র একটি বাড়ি দেখে কিনার জন্য। আমি তার কথা মতো এক পর্যায়ে এই জায়গা ও বাড়ী দুটি বিক্রি করার জন্য একমত পোষণ করি এবং চট্রগ্রামের একজন সাংসদ সদস্যের এর ভাই এর কাছে আমার কেনা জায়গা ও দুটি বাড়ি বিক্রির জন্য রাজি হয়ে বাসায় ফিরে যাই। বাসায় গিয়ে রাতে ভাত খেতে বসলে আমার স্ত্রী ও বড় ছেলে নাছির আমাকে খালি  দুটি স্ট্রাম্পে টিপসই দিয়ে তাদের নামে করে দিতে বলে। আমি রাজি না হওয়াতে আমাকে আমার বড় ছেলে ও তাকে পরোচনা কারী ভুমিদস্যু জয়নাল আবেদীন পারভেজসহ এক হয়ে ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর আমাকে বেদম পিটিয়ে গুরুতর আহত করে বাম হাত ভেঙ্গে পেলে। সবাই মিলে আমাকে আমার বাড়ীর একটি রুমে বন্ধি করে রাখে। আমি তাদের অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে অনেক কস্ট করে বাড়ী থেকে পালিয়ে চট্রগ্রামের দেওয়ানহাট এলাকায় নাছির মঞ্জিল নামক একটি বাড়িতে এসে আমার পরিচিত এক বন্ধুর বাসায় আশ্রয় নিই। এরপর আমি হাসপাতালে চিকিৎস্যা নিই। এ সুযোগেআমার চিকিৎস্যা পত্র নিয়ে ৭/০১/২০১৩ সালে ইং তারিখে আইন জীবির মাধ্যমে  চট্রগ্রামের একটি পত্রিকায় আমাকে মানসিক রোগী ও পাগল সাজিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আমার ছেলে ও তার সহযোগীরা। কিন্তু কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর আমি আমার স্ত্রী ও সন্তানদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করি আমি। ফলে নাছির উদ্দিন সু-কৌশলে ভুমিদস্যু জয়নাল আবেদীন পারভেজকে পাঠায় আমার কাছে। আর পারভেজের প্রলোভনে পড়ে স্ত্রীকেও তালাক দেয় আমি। তখন আমার সম্পতি রক্ষণা বেক্ষণ এর দায়িত্ব পালনের জন্য স্ট্রাম্পে স্বাক্ষর নেন পারভেজ। সেই থেকে শুরু হয় পারভেজের জাল দলিল, জাল খতিয়ান তৈরীর খেলা।
জাল কাগজপত্র দিয়ে নাছির উদ্দিনের সহযোগীতায় পারভেজ থানায় মোটা অংকের টাকা দিয়ে আমার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করে। এই মামলায় সাম্প্রতিক সময়ে আমাকে জেলেও পাঠায় তারা। ছেলে নাছির উদ্দিন পুলিশ এর সোর্স তাই তার কথায় আমাকে গ্রেফতার করে থানার পুলিশ। প্রায় এক মাস জেলে থাকার পর আমি জামিনে মুক্তি পায়। জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে ফিরলেও ছেলে নাছিরের ইন্ধনে পারভেজ দলবল  নিয়ে আবারও আমাকে মারধর ও প্রাণ নাশের চেস্টা চালাচ্ছে।
এদিকে আমাকে রক্ষায় এগিয়ে আসায় স্থানীয় প্রতিবেশী  ব্যবসায়ী মো: নুরুল আলম কেও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে বিভিন্ন থানায় হয়রানি করে যাচ্ছে ভুমিদস্যু সেন্ডিকেট।
এ বিষয়ে জানতে চট্রগ্রাম জেলা প্রশাসক মো: ইলিয়াছ হোসেন এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করতে চাইলে তিনি ঢাকায় জরুরী প্রোগ্রামে অংশ নেওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি,পরে এডিসি জেনারেল মো: হাবীব এর কাছ থেকেচট্রগ্রামে ভুমিদস্যু ও জাল দলিল তৈরী কারীদের বিরুদ্ধে আইনি কোন পদক্ষেপ নিবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন পতেঙ্গার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে ভুক্তভুগির অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব। পরে পতেঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কাসেম ভুইয়া বলেন ,পারভেজ  মামলা দিয়েছে, মামলা নেওয়া আমাদের দায়িত্ব। মো: আলী মামলা করলেও মামলা নেওয়া হবে, তবে সঠিক তদন্ত করেই ব্যবস্থা নেব। ভুমিদস্যু জয়নাল আবেদীন পারভেজ এর বিষয়ে জানতে পতেঙ্গা থানার এক এসআই নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,পারভেজ মানুষকে মামলা দিয়ে শুধু মোহাম্মদ আলী কে হয়রানি করেনি তার কারণে অনেক মানুষ কস্ট পাচ্ছে। সে পতেঙ্গা এলাকায় ভুমি দস্যু ও মামলাবাজ পারভেজ হিসাবে পরিচিত। স্থানীয় ব্যবসায়ী মো: নুরুল আলম এর কাছ থেকে মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,জয়নাল আবেদীন পারভেজ নোয়াখালী জেলার সেনবাগ থানার কানুচর গ্রামের মৃত আলী মিয়ার পুত্র বলে জানতে পেরেছি। তার সাথে আমার আগে কোন সময় পরিচয় ছিলো না, একদিন আমার অফিসে এসে কান্নাকাটি করে আমার প্রতিষ্ঠানের ভিজিটিং কার্ড নিয়ে আমার নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। মামলাটির তদন্ত করেন পতেঙ্গা থানা, সহকারী পুলিশ কমিশনার (ডবলমুরিং জোন) মো: আশিকুর রহমান ও ১৩/০৫/২০১৮ তারিখে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর) সহ এই পযর্ন্ত তিন বার বিভিন্ন থানায় বৈঠকে ডাকে আমাকে। ব্যবসায়ী নুরুল আলম আরো বলেন মামলাবাজ পারভেজ আরো কয়েকটি থানাতে আমাকে হয়রানি করার জন্য আরো অভিযোগ দিয়ে রেখেছে বলে আমি গোপন সুত্রে জানতে পেরেছি, আমি মো: মিয়া (প্রকাশ) মোহাম্মদ আলীকে সহযোদিতা করায় সে আমার পিছু লেগেছে । তার কারণ হলো সে যেই থানাতে অভিযোগ দায়ের করে সেই থানাতে তার পক্ষে রায় না পেলে সে অন্য থানাতে গিয়ে বিভিন্নি কৌশল নিয়ে অভিযোগ দায়ের করে। জয়নাল আবেদীন পারভেজ থেকে বাড়ী দখল ও মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করার বিষয়টি জানতে তার মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি সময়ের সংবাদকে বলেন, ভাই আমি আপনার সাথে সরাসরি কথা বলবো, আপনি আমার অফিসে আসেন। তবে পারভেজ তার অপর্কম গোপন করার জন্য কিছু সাংবাদিক ও পত্রিকার মালিকের নাম ব্যবহার করে হুমকি প্রদান করেন সময়ের সংবাদকে। তবে জয়নাল আবেদীন পারভেজ এর সাথে কথোপ-কথন এর সময় তার মোবাইলে ভয়েচ রেকড চালু করে রেখেছিলেন।
তবে মোহাম্মদ আলীর ছেলে নাছির তার বাবার সাথে বিরোধ থাকার কথা সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করে বলেন, বাবার মতি-গতি ঠিক নেই। তিনি এখন  এক কথা বলেন,পরক্ষণে আরেক কথা বলেন।বাবার সম্পত্তি উত্তরাধিকার সুত্রে যেখানে ছেলে-সন্তানেরা পাই সেখানে বাবাকে পিটিয়ে জোর করে সম্পত্তি নেওয়ার কি আছে।
তবে প্রশ্নের জবাবে নাছির বলেন,বাবা বেচে থাকা অবস্থায় তার নিজ নামে ক্রয় করা বাড়ি ও জমি বিক্রী করে দিলে হয় তো পাবনা। আমার বাবা সেই কাজটিই করার জন্য চাচ্ছেন। জমি রেজিস্ট্রি দিয়ে বাবা আবার তা জাল বলে দাবি করেছেন।