বিশ্বব্যাংক স্থগিত করল মিয়ানমারের ঋণ

October 18, 2017

world-bরোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি মিয়ানমারের ২০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তা সাময়িক স্থগিত করেছে বিশ্বব্যাংক।

গত বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে আলোচনা শেষে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে উন্নয়নসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক প্লাটফর্ম ডেভেক্সর ওয়েবসাইটে নিশ্চিত করা হয়েছে।

রাখাইনের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে দেওয়া এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে উদ্বেগ জানিয়ে এ ঋণ স্থগিত করে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের ওই বিবৃতিতে জানানো হয়, সম্প্রতি মিয়ানমারের জন্য অনুমোদিত উন্নয়নসংক্রান্ত ঋণের সর্বশেষ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছি আমরা। এতে মনে হয়েছে, ঋণের অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিতে সেখানকার পরিস্থিতি আরো উন্নতি হওয়া প্রয়োজন।

গত ২৫ আগস্ট রাতে দেশটির রাখাইন রাজ্যে কয়েকটি পুলিশ ও সেনা ক্যাম্পে একযোগে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এরপর থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংস অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। এতে গণহত্যা ও গণধর্ষণ চালানো হয় তাদের ওপর। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় রোহিঙ্গাদের হাজার হাজার ঘরবাড়ি। প্রাণে বাঁচতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে এ পর্যন্ত ৫ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বৈষম্যহীনতা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও সবার জন্য অর্থনৈতিক সুযোগের মৌলিক নীতির প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাংক। আমরা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সহিংসতা, রাখাইনের ধ্বংসযজ্ঞ ও তাদের উচ্ছেদ নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

এর আগে ২০১৫ সালে মিয়ানমার বন্যা এবং ‍ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখিন হয়। সে সময় দুর্যোগ মোকাবিলায় ফ্লাড অ্যান্ড ল্যান্ডস্লাইড ইমার্জেন্সি রিকভারি প্রজেক্ট (এফএলইআরপি) এর অধীনে দেশটিকে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা মঞ্জুর করে বিশ্বব্যাংকের বোর্ডস অব এক্সিকিউটিভস। এই ঋণের অর্থ মিয়ানমারের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম আয়েওয়ারওয়াডে, সাগাইং, ম্যাগওয়ে, বাগো, ইয়ানগুন, চিন এবং রাখাইন স্টেটসহ জাতীয় ও আঞ্চলিক সড়ক পুনঃনির্মাণসহ অন্যান্য সামাজিক উন্নয়নে বিনিয়োগ করার কথা ছিল। কিন্তু চলতি বছরের ২৪ আগস্ট থেকে রাখাইন অঞ্চলে রোহিঙ্গাদের ওপর ক্রমাগত নির্যাতনের কারণে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ চুক্তি সাময়িক স্থগিত করেছে বলে জানানো হয়েছে।