বড়াইগ্রামে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে যাত্রা ও জুয়ার আসর ভঙ্গ

May 16, 2018

নাটোর প্রতিনিধি :
নাটোরর বড়াইগ্রামে বৈশাখী মেলার নামে সেই অশ্রীল যাত্রা ও জুয়ার আসর ভেঙে দিলো প্রশাসন। শনিবার বিকেলে নাটোর জেলা প্রশাসক জনাব শাহিনা খাতুনের নেতৃত্বে র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা যাত্রার আসর ভেঙে দেয়।

এর আগে গত ৭ মে ‘বড়াইগ্রামে বৈশাখি মেলার নামে চলছে অশ্রীল নৃত্য’ শিরোনামে দেশের বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেটি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসলে শনিবার বিকেলে অসরটি ভেঙে দেয়া হয়।

পূর্ব সংবাদটি দেখানো হলো:
নাটোরের বড়াইগ্রামের নগর ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া খালি জমিতে বৈশাখি মেলার নামে অশ্লীল যাত্রা-পালা ও জুয়ার আসর চলছে । এ দিকে মাইকের উচ্চ শব্দে আশপাশের এইচ এস সি পরীক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় বিঘœ হচ্ছে বলে একাধিক পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক অভিযোগ করেন।
জানাগেছে নিয়মানুযায়ী কোন গ্রামীন মেলায় ইনডোর গেমস, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী সার্কাস, সামাজিক যাত্রাপালা, শিশুদের বিনোদন পার্ক, বাহারী রকমারী শাড়ি, থ্রি-পিচ, শিশুদের পোষাক, কসমেটিকস সামগ্রীসহ বিভিন্ন গ্রামীণ খেলাধুলা উল্লেখ থাকলেও সেগুলোর কোন অস্তিত্বই নেই সেখানে। সেখানে গভীর রাত্রে চলছে অশ্লীল যাত্রা-পালা এবং জুয়ার আসর।
মেলা কমিটির কাছে উচ্চ আদালতের রিট পিটিশনের অনুমতি থাকার দায় দিয়ে প্রশাসন নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছেন বলে জানান স্থানীয়রা। তারা জানান মেলা কমিটির লোকজন প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ মুখ খুলতে পারছেন না। ফলে এলাকায় বহিরাগত যুবকদের আড্ডাখানায় মাদকের সা¤্রাজ্যতে পরিণত হয়েছে মেলার এলাকা। স্কুল কলেজের ছাত্ররাও যাত্রার নামে অশ্লীল নাচ ও জুয়ার আসরের খপ্পরে পড়ে বিপথগামী হচ্ছে। শ্রেণীভেদে যাত্রার টিকিট বিক্রি হচ্ছে দেড় শত টাকা থেকে সাড়ে তিনশত টাকা। খুব বেশি ভিআইপিদের জন্য যাত্রার মেয়েদের সাথে মেলামেশা করার জন্য রয়েছে গোপন কক্ষ। সেখান থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে হাজার হাজার টাকা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েন বাজার থেকে সামান্য দূরে পাচবাড়িয়া গ্রামের একটি পতিত জমিতে টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরা হয়েছে। তবে সারাদিন কোন রকমের মানুষের সমাগম না থাকলেও রাত দশটার পর থেকেই ভিড় জমতে থাকে। ভিতরে ১০ থেকে ১৫ টি যায়গায় বসেছে জুয়ার আসর। সেখানে শত শত মানুষ ভিড় জমিয়ে জুয়া খেলছে এদের অধিকাংশই খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ ও স্কুল কলেজের ছাত্র। একটু ভিতরেই চাঁদোয়া দিয়ে ছোট ছোট খোপ করা আছে। সেখানে যাত্রার মেয়েদের রাখা হয়। সেখানে টাকার বিনিময়ে মেয়েদের সাথে মেলামেশার বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয় বলে জানা যায়। অপর দিকে রাত বারোটা বাজলেই শুরু হয় মেলার আসল পর্ব অশ্লীল নৃত্য। সেখানে যাত্রার মেয়েরা অর্ধলগ্ন হয়ে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রদর্শন করে নৃত্য করেন। যারা প্যান্ডেলে টাকা ছিটাতে পারে তাদেরকে যাত্রার মেয়েদের সাথে নাচার সুযোগ করে দেওয়া হয়। যে যতক্ষণ টাকা ছিটাতে পারবে তার সাথেই ততক্ষন নাচবে।
কয়েন বৈশাখি মেলার নামে যাত্রাপালা চালাচ্ছেন স্থানীয় বাচ্চু মেম্বর ও উপজেলা আ’লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলম । অপর দিকে বনপাড়া বাইপাসে শফিক ও সৈকত নামের দুই আ’লীগ নেতা সেখানে মেলা চালাচ্ছেন।
এইচএসসি পরীক্ষার্থী আল মামুন ও অন্তর বলেন, মেলায় সন্ধ্যা থেকে সারারাত মাইক বাজানো হয়। এতে পড়াশোনায় ব্যাহত হচ্ছে।
পাঁচবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, মাইকের উচ্চ শব্দে এলাকার মানুষের ঘুম হারাম হয়ে যাচ্ছে। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ায় ব্যহত হচ্ছে। স্কুলের ছাত্ররা অশ্লীল যাত্রা দেখছে। কেউ আবার বাবার পকেট থেকে টাকা নিয়ে জুয়ার আসরে হেরে আসছে।
নগর ইউপি চেয়ারম্যান নিলুফার ইয়াসমিন ডালু বলেন, মেলা বন্ধে প্রশাসনের প্রতিটি দপ্তরকেই অনুরোধ করছি। সাংবাদিকদের অনুরোধ করেছি। যেখানে সাংবাদিকরাই অশ্লীল যাত্রা চালায় সেখানে তো প্রশাসন নিশ্চুপ থাকবেই। রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে পুলিশ সাংবাদিক সবাই যেখানকার টাকা খায়। সেখানে মেলা বন্ধ করা কিভাবে সম্ভব। এখানে ধানাইদহ গ্রামের কয়েকটি মানুষের কাছে প্রতি রাত্রে পাঁচ হাজার টাকা আসে। কয়েন গ্রামের ত্রিশ জন ত্রিশ হাজার টাকা পায়। পাঁচবাড়িয়া গ্রামে পঁচিশ হাজার টাকা যায়। জমির মালিককে আশি হাজার টাকা দিয়ে জমি নেওয়া হয়েছে। আমি একা প্রতিবাদ করে কিছুইকরতে পারছি না।
মেলা কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য বাচ্চু প্রামানিক বলেন, হাইকোর্ট থেকে অনুমতি নিয়েছে। তাই মেলা চালাচ্ছি।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহরিয়ার খান বলেন, সেখানে হাইকোর্ট থেকে অনুমতি নিয়ে মেলা চালানো হচ্ছে। সেখানে আমাদের কিছুই করার নেই।