শক্তিশালী ভূমিকম্পে পেরুতে দু’জনের মৃত্যু

January 14, 2018

earth-qপেরুর দক্ষিণ উপকূলে রোববার সকালে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে দুজনের মৃত্যু হয়েছে, ১৬ জন নিখোঁজ রয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছে।

উচ্চ তীব্রতার এ ভূমিকম্পে অনেক ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাটের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার ভোর ৪টার ১৮ মিনিটে অনুভূত এ ভূমিকম্পের উৎপত্তি স্থল দেশটির আকারি শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে প্রশান্ত মহাসাগরে। ভূপৃষ্ঠের ৩৬ কিলোমিটার গভীরে এ ভূমিকম্পের কেন্দ্র।

অ্যারেকুইপার গভর্নর ইয়ামিলা অসোরিও টুইটারে জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পর ইয়াউকা শহরে গড়িয়ে পড়া পাথরের আঘাতে ৫৫ বছর বয়সি এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। পেরুরে সিভিল ডিফেন্স ইনস্টিটিউটের প্রধান জর্জ চাভেজ স্থানীয় রেডিও স্টেশন আরপিপিকে বলেছেন, বেল্লা ইউনিয়ন শহরে আরেক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

সিভিল ডিফেন্স ইনস্টিটিউট তাদের টুইটার পেজে জানিয়েছে, রোববারের এ ভূমিকম্পে ৫৫ জনের বেশি লোক আহত হয়েছে। চাভেজ বলেছেন, কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে, হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

পেরুর স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় শহর চালার পূর্বে একটি অনুমোদনহীন খনি ধসে পড়ায় সেখানকার ১৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। অ্যারেকুইপার গভর্নর অসোরিও জানিয়েছেন, কয়েকটি পৌরসভার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তিনি আরো জানিয়েছেন, রাজধানী লামায় পরাঘাত অনুভূত হওয়ায় অনেককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

পেরুতে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়ে থাকে। কিন্তু অনেক বাড়িই ভূমিকম্প সহনশীল নয়। ২০০৭ সালের ভূমিকম্পে দেশটিকে কয়েক শত মানুষের মৃত্যুর হয়।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তামা উৎপাদনের দেশ পেরু। বেশির ভাগ তামা খনি উপকূল থেকে অনেক দূরে হওয়ায় রোববারের ভূমিকম্প সেখানে অনুভূত হয়নি। তবে পেরুর দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রতিবেশী চিলির উত্তরাঞ্চলে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তবে সে দেশে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র : রয়টার্স অনলাইন