৭১ বাংলা টিভির রিপোর্টার রেজাউলের সাথে অ-স্বাভাবিক আচরণ

June 4, 2018

মোঃ আলমগীর// আমি আমার অফিস অলংকার হানিমুন টাওয়ার থেকে গত ০১/০৬/২০১৮ইং রাত ৮ টার দিকে একটি পোগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম সিমেন্ট ক্রসিং যাবো জিইসি মোড় দিয়ে। জিইসি মোড়ে আমার এক ফ্রেন্ড বাংলার চোখ নিউজ এজেন্সির সাংবাদিক মোঃ জাকির হোসেনের সাথে দেখা হয়। তখন আমরা তিনজন মিলে চা দোকানে দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি রাস্তায় যানযট লেগে আছে। বন্ধুকে বিদায় দিলাম। আমি ক্যামেরাটা জাকিরের হাতে দিয়ে বললাম একটু গিয়ে দেখেনতো জ্যামটা কেন লাগলো। তার পিছনে আমিও গেলাম। তখন দেখি একজন মানুষ রাস্তার মাঝখানে গাড়ি দাঁড় করিয়ে ২০০ টাকা করে নিচ্ছে। জাকিরকে বললাম ক্যামেরা অন করেন। জাকির ভিডিও করতে লাগলো আর জিজ্ঞেস করলো এটা কিসের টাকা নিচ্ছেন ভাই। তার সাথে কথা বলার ফাঁকে ২০-২২ জন কোথা থেকে এসে বলতেছে আপনারা কোন টেলিভিশন থেকে এসেছেন তখন আমি বললাম ৭১ বাংলা টিভি থেকে। তখন তারা আমাদের দুইজনকে আটক করে কোন কথা শুনার আগেই মারধর শুরু করে। আমরা স্যাটেলাইট টেলিভিশনের সাংবাদিক সবাই। তোরাইতো আসল চাঁদাবাজ। তোরা এই ছেলেকে কেন ভিডিও করলি। তোদের জ্বালায় কি ট্রাফিক পুলিশ শান্তিতে টাকা তুলতে পারবে না। তোদের এই ভুয়া টেলিভিশনের কারনে আজ কোন ট্রাফিক পুলিশ ও টেন্ডলেরা শান্তিতে কাজ করতে পারছে না। রাস্তা থেকে মারতে মারতে পুলিশ বক্সে নিয়ে যায়। সার্জেন্ট সাজেদুল আমাদেরকে দেখে বলেন এইতো এতদিন পরে হাতেনাতে পাইছি।

তারপর দেখি সেখানে রিয়াজ হায়দার চৌধুরী। তিনি আমাকে বলেন এই তুই আমাকে চিনিস। আমি বললাম কেন চিনবো না, আপনাকে প্রেসক্লাবে অনেকবার দেখেছি বক্তিতা দিতে, চিনিতো আপনাকে। হঠাৎ দেখি আরও কয়জন ডিমওয়ালা, জুতা দোকানদার সহ আরো কত ব্যবসায়ীকে হাজির করলো তারা আমাদের ৭১ বাংলা টিভির বিরুদ্ধে স্বাক্ষী দেয়ার জন্য। এই সব সাজানো নাটকীয় লোকদের কথা ধরে আমাকে থাপ্পড়, ঘুষি মারে। তখনও পুলিশ আসে নাই। মারধরের সময় সার্জেন্ট সাজেদুল সহ আশেপাশের অনেক জনতা উপস্থিত ছিলেন। ঐ সার্জেন্ট কোন কথাই বলেন নি। তারা রাস্তা থেকেই আমার ক্যামেরা নিয়ে যায়। রিয়াজ হায়দার আমাকে বলেন আমরা সবাই এখানে স্যাটেলাইট এবং জাতীয় পত্রিকার বড় বড় সাংবাদিক, আমাদেরকে এখনো লোকজনে ঠিকমতো চিনে না, আর তোদের এবং ৭১ বাংলা ভুয়া টিভি যার কোন অস্তিত্ব নাই এই চট্টগ্রামে অথচ তোদেরকে সবাই চিনে, নিশ্চই তোরা চাঁদাবাজি করস তা না হলে কিভাবে চিনে। তোদের এই ভুয়া টিভি ৭১ বাংলার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আমাদের কাছে আছে, আজকে পাইছি তোদের। এই চট্টগ্রামে তোরা কোন প্রেসক্লাবের সদস্য তখন আমি বললাম প্রেসক্লাবে সদস্য হইনি এখনো। তবে অনলাইন প্রেসক্লাবে সদস্য হবো। এই কথা বলার পরে তিনি বলেন চট্টগ্রামে কোন অনলাইন প্রেসক্লাব নাই, আর যদিও থাকে তার কোন ভিত্তি নাই আমাদের কাছে। আইডি কার্ড একটা মনগড়া মতো বানাই রাস্তায় নামাই দিছে তোদেরকে চাঁদাবাজি করার জন্য তা না হলে কোন বেতন নাই কিছু নাই কিভাবে চলস তোরা। আমি বললাম আমার চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেন তিনি যদি আমাদেরকে চিনেন না জানান তাহলে আমরা অপরাধী, এই কথা বলার পর মারে আর বলে এই বালের অনলাইনের আবার চেয়ারম্যান ও আছে দেখি, এখন দেখবো তোদেরকে কোন বাপে বাঁচায়। পুলিশ আসে খুলশী থানা থেকে আমাদেরকে বসতে বলে আর ঘটনা কি হইছে জানতে চায়। কিন্তু ঘটনা খুলে বলতেও দেয় না বলতে গেলেই থাপ্পড় মারে আর বলে কিছুই শোনা লাগবে এদের। আমার গায়ে যারা হাত তুলেছে তাদের সবাইকে আমি দেখলে চিনতে পারিবো, তার ভিতরে একজনের নাম সুজন আর্চায্য।  থানায় নিয়ে যান এবং রিমান্ডে নিয়ে ভালোভাবে মার দিলে এদের গডফাদার সহ বেরিয়ে আসবে। তখন কয়জন মিলে আমার ক্যামেরার ফিতা নষ্ট করে ফেলতে চায়, সেই মুহুর্তে এসআই কাশিম বলেন আমি এই জিনিসপত্র সিজ করবো। তিনি তার দায়ীত্ব পালন করলেন। এসআই কাশিম যদি সিজ না করতো তাহলে আমার ভিডিও ডকুমেন্ট তারা নষ্ট করে ফেলতো।  তার কিছুক্ষন পরে সেকেন্ড অফিসার নুরউদ্দিন আসেন এবং ঘটনা দেখেন আর আমাদেরকে পুলিশের গাড়িতে ওঠাতে বলেন। পরে দেখি ওসি তদন্তও আসছেন, তাদের মুখে শুনেই গাড়ির কাছে এসে বলেন তোরা কোন পত্রিকার সাংবাদিক, আমি বললাম পত্রিকা নয় ৭১ বাংলা টিভির সাংবাদিক। বলার পর তিনি বলেন এদেরকে নিয়ে যান আমি দেখতেছি। থানায় আসার পরে ওসি সাহেব, ওসি তদন্ত ও এসআইসহ  জিজ্ঞাসাবাদ করলো আসলে  ঘটনাটা কি? পুরো ঘটনা আমি বিস্তারিত খুলে বললাম।তার পরে দেখতেছি রাতে অনেক সাংবাদিক বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন করে জানতে চান যে ৭১ বাংলা টিভির সাংবাদিক নাকি এরেস্ট হইছে। তখন ডিউটি অফিসার বলেন আমরা পুরো ঘটনা তদন্তের পরে জানাবো। পরদিন (২/৬/১৮ইং) রোজ শনিবার সকালে ওসি সাহেব আসেন। এসেই ডাক দিলেন ওনার রুমে। বলেন তোমার সাথে এরকম কেন হইছে বুঝতে পারছি না দেখি ক্যামেরাটা অন কর আর ভিডিওটা দেখাও। আমি ভিডিওটা দেখালাম। তখন তিনি বলেন তুমি যাও আমি দেখতেছি আরো তদন্ত চলছে আর ডাক দিলে আসিও। কিছুক্ষন পরে আবার ডাক দিলেন রুমে, গেলাম যাই দেখি সহকারী পুলিশ কমিশনার আসছেন। তিনি আমার কাছে ঘটনাটা জানতে চাইলেন আর আমি ঘটনাটা কি ঘটলো খুলে বললাম। সহকারী কমিশনার যাওয়ার পরে ওসি আমাকে বার বার জিজ্ঞেস করলেন তোমাদের এই টিভির কোন অনুমোধন আছে নাকি থাকলে কাগজপত্র দেখাতে বলো। আমি বললাম দেখেন বাংলাদেশ সরকার যদি অনুমোধন না দেয় তা হলে কারো শক্তি নাই এরকম একটা ভুয়া টেলিভিশন খোলার সাধ্য, আপনি আমার চেয়ারম্যানকে ফোন করেন। ওসি, ওসি তদন্ত আমাকে অনেক শাষন করে বলেন তোমাদেরকে একটা আইডি দিয়ে রাস্তায় ছেড়ে দিয়েছে কেন? চট্টগ্রামে সাংবাদিকতা করো তাহলে চট্টগ্রামে প্রেস ক্লাবের সদস্য হতে পারনি আর সদস্য না হলেতো ভুয়া সাংবাদিক প্রমাণীত হয়। তখন আমি ওনাদেরকে বললাম দেখেন প্রেস ক্লাবে আমাদের চাইতে অনেক সিনিয়র সাংবাদিক আছেন তারাও এখনো সদস্য হতে পারেনি আর আমরাতো দুরের কথা। পরিশেষে যারা আমার বিরুদ্ধে ঘটনাস্থলে স্বাক্ষী দিয়েছিল তাদেরকে এক এক করে ডাকা হলো। স্বাক্ষীদের ভিতরে ছিলো ডিমওয়ালা, জুতাওয়ালা সহ আরো কয়জন ফুতপাতের দোকানদার এবং সার্জেন্ট সাজেদুল ও তার কনস্টেবল লিটন। আমাকে সামনে রেখে সবাইকে জিজ্ঞাসা করা হলো যে এই সাংবাদিক কি তোমাদের কাছে কোন চাঁদার দাবী করেছিল বা তোমাদেরকে টাকা না দিয়ে কোন জিনিস নিয়েছিল, তখন সবাই বলেন, না আমরাতো একে চিনি না এটা অন্যজন ছিলো। তখন ওসি সাহেব বলেন তাহলে তোমরা একজন ভালো মানুষের নামে বদনাম কেন করলা? দোকানদাররা বলেন আমাদেরকে যে ভাবে শিখিয়ে দেয়া হয়েছে আমরা সেভাবে বলেছি. কিন্তু আমরা কখনো এই সাংবাদিককে দেখিনি আর কখনো আসেওনি। পরে সার্জেন্ট ও কনস্টেবল আসলো আর বললো না এ সেই সাংবাদিক না, আর তিনি আমাদের সাথে কোন প্রকার খারাপ আচরণও করেন নি, শুধু শুধু মিথ্যা বলতে পারবো না।কথাগুলো শুনে সহকারী কমিশনার চলে গেলেন। ওসি আমাদের সাংবাদিক ও আমাকে বলেন সন্ধ্যা ৭ টার দিকে ছেড়ে দিবো তখন আসেন আপনারা। গত ২/৬/২০১৮ইং রোজ শনিবার সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিটের দিকে আমাদের সাংবাদিকেরা আসলো আর জিম্মানামা ও মুচলেখা নিয়ে আমাদের মুক্তি দেওয়া হয়। আসার সময় ওসি বার বার আমাকে বলেন আমি যেন ওই টেন্ডলের ভিডিওটা ডিলেট করি। আমি বললাম ঠিক আছে আমি ডিলেট করবো। রাতে অফিসে এসে দেখি পাঠক নিউছে আমার নামে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। আমি পাঠক নিউজের সম্পাদককে ফোন করে বললাম বাই আপনি যে নিউজটা করলেন তার কোন এফিডেন্স আছে আপনার কাছে। তিনি উত্তর দেন আমাকে রিয়াজ হায়দার ছবি এবং লেখা পাঠিয়েছেন নিউজ করার জন্য, আমি নিউজ করেছি। পরে ওসি আমাকে আবার ফোন দিয়ে বলেন তোমাকে ছেড়ে দিয়েছি বলে সাহস পেয়ে গেছ না, তুমি ওই সাংবাদিকদের কে ফোন করে হুমকি দিচ্ছ কেন তখন আমি বললাম আমি কোন কাউকে ফোন করিনি এবং করবোও না। আপনি আমাকে প্রমাণ দিতে হবে যে আমি কাউকে ফোন করেছি। পরে ওসি বলেন আমি প্রমাণ দিচ্ছি, কিন্তু এখনো দিতে পারলো না প্রমাণ। আর কোন প্রমাণ ছাড়া আমার বিরুদ্ধে নিউজ করেছিলো পাঠক নিউজ, রাইজিং বিডি, সিপ্লাস ও প্রিয়সংবাদ নামের কয়েকটি অনলাইন পত্রিকা এবং রিয়াজ হায়দার, সফিক আহমেদ সাজিব, হাসান ফেরদৌস সহ তাদের সাঙ্গবাঙ্গরা ফেইচবুকে স্টেটাস দিয়েছেন। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণরুপে মিথ্যা, বানোয়াট, কারসাজি ও ষড়যন্ত্রমূলক ছিলো। চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস ও সফিক আহমেদ সাজিব সহ আরো অনেক ব্যাক্তি।

এই ষড়যন্ত্রের কারনে আমি এবং ৭১ বাংলা টিভির মানহানী হয়েছে। আমার এবং প্রতিষ্ঠানের যে মানসম্মান নষ্ট হয়েছে তা ফিরিয়ে দিতে হবে তাদেরকে।